জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনা
৩৮দিন
:
০৮ঘণ্টা
:
০২মিনিট
:
৩৬সেকেন্ড
চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের আবেদন করেছেন সিআইডি প্রধান ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান -

চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের আবেদন করেছেন সিআইডি প্রধান ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান

1 min read
331 Views

ন্যাশনাল ডেক্স, দৈনিক নোয়াখালী সময় ডট কম: চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে। এর মাঝে নতুন করে আরও এক বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের আবেদন করেছেন সিআইডির প্রধান হিসেবে দায়িত্বরত পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান।৩০ জুলাই পুলিশের এই শীর্ষ কর্মকর্তার অবসরে যাওয়ার কথা ছিল। ৩১ জুলাই থেকে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের আবেদন করেছেন তিনি। পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত ডিআইজি (পারসোন্যাল ম্যানেজমেন্ট-১) কাজী জিয়া উদ্দিন সেই আবেদন স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে পাঠিয়েছেন।বিষয়টি নিয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে কিছুটা ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। তারা বলছেন, চাকারির বয়স শেষ হওয়ার পর আবারও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ মানে অধস্তন কর্মকর্তাদের পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত করা। এমনটি করা হলে অধস্তনদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়।পুলিশ সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে, সিআইডি প্রধান ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে এক বছরের চুক্তিভিত্তিক আবেদন করেছেন। গত ১ জুন তার আবেদনটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।চিঠি পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে অতিরিক্ত ডিআইজি কাজী জিয়া উদ্দিন বলেন, ‘চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে এটি একটি অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা যাবে না।’পুলিশ সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বাংলাদেশে অতিরিক্ত আইজিপির পদ রয়েছে ১৮টি। এর মধ্যে পুলিশ সদর দফতরে রয়েছেন পাঁচজন। এসবির প্রধান, সিআইডি প্রধান, ডিএমপি কমিশনার, এপিবিএন প্রধান, র‌্যাবের প্রধান, পুলিশ স্টাফ কলেজের অধ্যক্ষ, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের প্রধান, হাইওয়ে পুলিশের প্রধান, রেলওয়ে পুলিশের প্রধান, অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান, পুলিশ একাডেমির প্রধান, টেলিকম ইউনিটের প্রধানরা অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদায় নিয়োগপ্রাপ্ত হন।অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা জানান, ‘এখনও পুলিশের সপ্তম, অষ্টম ও বারোতম ব্যাচের অনেকেই অ্যাডিশনাল আইজি হতে পারেননি। সেখানে একজন কর্মকর্তা চাকরির বয়স শেষে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেলে নিচের প্রতিটি ব্যাচের কর্মকর্তা বঞ্চিত হবেন।’পুলিশের ব্যাচভিত্তিক কর্মকর্তাদের কর্মস্থল ও নিয়োগের নথিপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, এখনো সপ্তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের অনেকেই ডিআইজি পদমর্যাদায় চাকরি করছেন। এর পরের তিনটি ব্যাচের (অষ্টম, ১২তম ও ১৫তম) ব্যাচের কর্মকর্তাও অতিরিক্ত আইজি হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন। অষ্টম ও ১২তম ব্যাচের অনেক কর্মকর্তা এসপি ও অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে কাজ করছেন।পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান ১৯৮৯ সালে অষ্টম ব্যাচের এএসপি হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন। কর্মজীবনের শুরুতেই তিনি খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে চাকরি করেন। ২০০২ সালের ১৬ এপ্রিল থেকে ২০০৩ সালের ২৫ আগস্ট পর্যন্ত টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার, ২০০৩ সালের ২৬ আগস্ট থেকে ২০০৫ সালের ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার ও পরে পুলিশ হেড কোয়ার্টার্সের গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ ইকুইপমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট শাখায় এআইজি হিসেবে কাজ করেছেন।ওয়ান ইলেভেনের সময় ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে পুলিশ সদর দফতরের ডিআইজি অপারেশনন্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে নির্বাচনের আগ-মুহূর্তে তাকে ওই পদ থেকে অন্যত্র বদলি করা হয়।এর আগে তিনি কিছুদিন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।ওই কর্মকর্তা বলেন, ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলেও ভালো ভালো পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরও ভালো পদে ছিলেন। তারপরও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের আবেদন করেছেন। একজনই যদি সবসময় ভালো পদ ধরে রাখতে চান, তবে অন্যরা সুযোগ পাবে কী করে?পুলিশের দায়িত্বশীল ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার ভাষ্য, ‘৩২ বছর চাকরির পর আবারও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের জন্য আবেদন করাটা সমীচীন নয়। এতে অধস্তনদের মনোবল ভেঙে যায়। যদি কোনও কর্মকর্তা একটি বিশেষ কাজের জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়েন তবে সরকার বিবেচনা করে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিতে পারেন। তা ছাড়া অবসরের আগমুহূর্তে নিজ থেকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের আবেদন করাটা একেবারেই অনুচিত।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *