জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনা
৩৮দিন
:
০৮ঘণ্টা
:
০২মিনিট
:
৩৬সেকেন্ড
বেগমগঞ্জের গৃহবধুকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন: জনপ্রতিনিধিদের আদলে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে এক সময়ের ছেঁচড়া চোর দেলোয়ার, সম্রাট, খালাসী সুমন ও কাতা রাসেল বাহিনী। গড়ে তোলে বিশাল অস্ত্র ভান্ডার ও কিশোর গ্যাং মামা বাহিনী -

বেগমগঞ্জের গৃহবধুকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন: জনপ্রতিনিধিদের আদলে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে এক সময়ের ছেঁচড়া চোর দেলোয়ার, সম্রাট, খালাসী সুমন ও কাতা রাসেল বাহিনী। গড়ে তোলে বিশাল অস্ত্র ভান্ডার ও কিশোর গ্যাং মামা বাহিনী

1 min read
227 Views

আবদুল কাদের, দৈনিক নোয়াখালী সময় ডট কম: চৌমুহনী মদন মোহন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বেগমগঞ্জ থানার শীর্ষ সন্ত্রাসী ২৪ মামলার আসামী সম্রাট ও পেট কাটা খালাসী সুমন, কাতা রাসেল ও দেলোয়ার বাহিনী যুবদল থেকে যুবলীগে যোগ দিয়ে জনপ্রতিনিধিদের আদলে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে। গড়ে তোলে বিশাল অস্ত্র ভান্ডার ও কিশোর গ্যাং মামা বাহিনী। সরজমিন অনুসন্ধানে এলাকাবাসী জানায়, রাজনীতিবিদদের ছত্র ছায়ায় থেকে বেগমগঞ্জের ১৬ ইউনিয়ন ও চৌমুহনী পৌরসভায় মাদক নেট পরিচালনা সহ মগের মুল্লুক চালাচ্ছেন। মানুষকে জিম্মি করে ভূমি দখল, চাঁদাবাজি, ইভংটিজিং, দুর্নীতিসহ রাম রাজত্বের ৪ বাহিনী পৃথক পৃথক ভাবে গড়ে তুলেছেন। পুলিশের খাতায় দীর্ঘদিন পলাতক, ডাবল মার্ডার, ডাকাতি, অপহরণ, গণধর্ষণ, বিস্ফোরক, রাহাজানি, চাঁদাবাজিসহ ২৪ মামলার আসামী সম্রাট, ৫ মামলার আসামী দেলোয়ার হোসেন ওরপে দেল্যা চোরা ও পেটকাটা খালাসী সুমন যুবলীগে যোগ দিয়ে রাজনৈতিক প্রশ্রয় পেয়েই বেপরোয়া হয়ে উঠে। এখলাসপুর ও শরীফপুর ইউনিয়ন নিয়ে গড়ে তোলে বিশাল অস্ত্রধারী ক্যাডার বাহিনী। এ বাহিনীর সংখ্যা ৫০০/৬০০জন। এ বাহিনী চুরি, ডাকাতি, মাদক ব্যবসা, ছিনতাই, নারী নির্যাতন, ইভটিজিং, সিএনজি ছিনতাই, সিএনজির যাত্রীদের ছিনতাই, হেন কাজ নেই যা করেনি। পুলিশ বলছে তাকে দীর্ঘদিন খুঁজে পাওয়া যায়নি। এলাকাবাসী বলেন সে গ্রামেই ছিল। এতসব কুকর্মের সাথে সে এলাকার শালিস দরবারও করেছে। আবার অনেকের প্রয়োজনে থানার গোলঘরেও শালিসদার হিসেবে গিয়েছে। বেগমগঞ্জ থানার দু’ একজন সাব ইন্সপেক্টর ও সহকারী সাব ইন্সপেক্টরের সাথেও ছিল তার সখ্যতা। কোন অভিযানের খবর শুনলে তাদের পালিয়ে যেতে সুযোগ দিত। এলাকাবাসী জানায়, দৃশ্যমান তার কোন পেশা নাই। চুরি চামারি ছিনতাই, অস্ত্রবাজি, অস্ত্র বিক্রি ও অস্ত্র ভাড়া দেয়া এবং এলাকার প্রভাব বিস্তারে একে মেরে, ওকে হুমকি দিয়ে, চাঁদাবাজি করে তার দিন কাটছে। এলাকাবাসী জানে, সে শাসক দল আওয়ামীলীগের ছত্র ছায়ায় রয়েছে। এ দেলোয়ার বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের  চেয়ারম্যান প্রার্থী আলমগীর কবিরের পক্ষ নিয়ে নির্বাচনে প্রচার প্রচারণায় অংশ নেয় এবং নির্বাচনের দিন ১টি ভোট কেন্দ্র দখল করে আওয়ামী লীগ নেতাদের নজরে আসে। যদিও আলমগীর কবির বিএনপি প্রার্থী খলিলুর রহমানের কাছে বিপুল ভোটে হেরে যায়। তারপরও দেলোয়ার এলাকার বড় মাপের যুবলীগ নেতায় পরিচিত হয় এবং পার্লামেন্ট নির্বাচনে নৌকার পক্ষেও সে নির্বাচন করে।  নির্বাচনের পরে বিশাল হোন্ডা বহর নিয়ে গিয়ে জনপ্রতিনিধিকে ফুলের তোড়া উপহার দিয়ে পুনরায় আওয়ামীলীগে যোগ দিয়ে হয়ে উঠেন বড় মাপের নেতা। রাজনীতিক নেতাকে ফুলের তোড়া দেয়া ছবি দিয়ে সে পোস্টার, প্লেকার্ড ও ব্যানার তৈরি করে রাস্তার মোড়ে মোড়ে, এমনকি উপজেলা ও জেলা সদরেও টাঙ্গিয়ে দেয়। কিন্তু  নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার এখলাসপুরে ২ সেপ্টেম্বর এক গৃহবধু (৩৭) কে ধর্ষনের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে মধ্যযুগীয় বর্বরতাকে হার মানানো বর্বরতার মধ্য বিবস্ত্র করে মারধর করে তার ছবি ভাইরালের কারণে নোয়াখালী জেলা সহ গোটা দেশ ফুসে উঠে। তখনি তৎপর হয় পুলিশ সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থা। ছুটে আসেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন। জেলা পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন রাত জেগে বেগমগঞ্জ থানায় বসে ভিকটিমকে উদ্ধার, মামলা দায়ের, আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান পরিচালনা করে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ার ও তার প্রধান সহযোগী বাদলকে র‌্যাব অস্ত্রসহ নারায়নগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জ থেকে এবং বাকী আসামী আবদুর রহিম, রহমত উল্যা, সাজু, সোহাগ মেম্বার, সোহাগ ও রাসেলকে বেগমগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করে বেগমগঞ্জ থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশ। দেলোয়ারকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করে র‌্যাব সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় এবং বাদলসহ ৯জনকে আসামী করে বেগমগঞ্জ থানায় শিশু ও নারী নির্যাতন দমন আইনে মামলা এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রন আইনে মামলা দায়ের হওয়ার পর এলাকাবাসী মুখ খুলতে শুরু করেছে। মৃত ছায়েদল হকের ছেলেদের মধ্যে দেলোয়ার তিন ভাইয়ের মধ্যে দ্বিতীয়। বড় ভাই আনোয়ার হোসেন ও ছোট ভাই মিন্টুও ইয়াবা ব্যবসা, গরু চুরি, সিঁদেল চুরি, ছিনতাই করে থাকে। রবিবার র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার পর সে র‌্যাবকে তার বিরুদ্ধে দু’টি হত্যা মামলার কথা জানিয়েছে দেলোয়ার। আর বেগমগঞ্জ পুলিশ তার বিরুদ্ধে একটি হত্যাসহ চাঁদাবাজি, রাহাজানি, বিস্ফোরক আইনে আরো ৪টি মামলার কথা জানান। এরপর এখন তার বিরুদ্ধে নতুন করে আরও সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় অস্ত্র আইনে ১টি, বেগমগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে (ধর্ষন) ১টি মামলা র‌্যাব দায়ের করেছে। এ দু’টি সহ তার বিরুদ্ধে মোট ৯টি মামলা রয়েছে বলে বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হারুনুর রসিদ জানান। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় মোট ১১ আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এলাকার মসজিদের পেশ ইমাম (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানান, দূরন্ত সাহসের অধিকারী দেলোয়ার ছোটবেলা থেকে এ বাড়ি, ও বাড়ি চুরি করত। ক্ষেতের ফসল নষ্ট করত, পুকুরের মাছ চুরি করত। গত ৭/৮ বছর ধরে সে সিএনজি চালাতে শুরু করে। তখন বেগমগঞ্জের হাজীপুরের সম্রাট বাহিনী, সুমন বাহিনী ও জিরতলীর ফাজিলপুরের নিজাম বাহিনীর সাথে তার সখ্যতা হয়। পরে সিএনজি চালানো ছেড়ে এ বাহিনী গুলির সাথে কক্সবাজার থেকে ইয়াবা চালান এনে বিক্রি শুরু করে। ইয়াবার সাথে সাথে অস্ত্রের বেচাকেনা ও অস্ত্র ভাড়া দিতে শুরু করে। দেলোয়ার তার বাহিনীর তরুন সদস্যদের দিয়ে ইয়াবার চালান ও অস্ত্রের চালান করাত। ক্রমশ এ বাহিনী এতই দুর্ধর্ষ হয়ে উঠে যে, তারা বিভিন্ন এলাকায় ৫ হাজার টাকায় অস্ত্র ভাড়া ও স্যুটারসহ ১৫ হাজার টাকা ভাড়া দিত। এলাকায় প্রচার আছে যে, বেগমগঞ্জের আমান উল্যাপুরে আ’লীগের দুগ্রুপে সংঘর্ষে এ বাহিনীর অস্ত্র ও স্যুটার দিয়ে এক ছাত্রলীগ ও এক যুবলীগ নেতাকে হত্যা করা হয়েছিল। তাছাড়া হাজীপুরে মার্ডার, এখলাসপুরে জোড়া খুন দেলোয়ার বাহিনীর অস্ত্র দিয়েই হয়েছে। তারপরও সে এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরাফিরা করেছে। এমপি, মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর ছবি দিয়ে ব্যানার টাঙিয়ে সে এলাকায় নিজের ক্ষমতার জানান দিত। এ ব্যাপারে এখলাসপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মোশাররফ হোসেন জানান, দেলোয়ার বা তার বাহিনীর কেহ আওয়ামী লীগের কোন পদে নাই। তবে আওয়ামী লীগের কিছু নেতা তাদের প্রশ্রয় দেয়ায় এখন তারা দলের নেতাদেরকেও অস্ত্রের ভয় দেখায়। বেগমগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য মামুনুর রসিদ কিরন সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছেন, তিনি দেলোয়ারকে চিনেন না। নির্বাচনে জয়লাভ করার পর কোন ফাঁকে তাকে ফুল দিয়েছিল তা তাঁর জানা নাই। তিনি এখলাসপুরে নারী নির্যাতনকারী দেলোয়ার বাহিনী সহ সুমন বাহিনী, নিজাম বাহিনী সব বাহিনীকে গ্রেফতারের দাবী জানান। দেলোয়ার বাহিনীর অন্য কমান্ডাররা হচ্ছে :-

নুর হোসেন বাদল (২০) : দেলোয়ারের কিশোর গ্যাং ক্যাডার বাহিনী নির্ভরযোগ্য সদস্য। পিতৃ পরিচয়হীন এ বাদলের এলাকার কেহ তার পিতার পরিচয় বলতে রাজি নয়। মামলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে বর্তমান পিতা রহমত উল্যা, পূর্বের পিতা সাহাব উদ্দিন। সে বসবাস করে মধ্যম এখলাসপুর মহরম আলী মুন্সী বাড়িতে। ছোট বেলা থেকে ঘাত প্রতিঘাতে বড় হয়েছে। তাই তাকে দেলোয়ার বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোট কেন্দ্র দখলে দলে ভিড়িয়ে নেয়। তারপর থেকে সে ছাত্রলীগ নেতা। কোন স্কুল কলেজে না গিয়েও এলাকায় চুরি চামারী করেও ছাত্রলীগ নেতার নাম ভাঙিয়ে এলাকায় চাঁদাবাজি করে ও দেলোয়ারের অস্ত্রের স্যুটারম্যান হিসেবে ভাড়ায় খাটে এবং দেলোয়ারের নির্দেশে কক্সবাজার থেকে ইয়াবা ও অস্ত্রের চালান আনা নেয়া করে। তার নেতৃত্বে রয়েছে মিনি ক্যাডার কিশোর গ্যাং বা ছোট মামা বাহিনী। এ বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ২০/২৫ এর কম না। সে গাবুয়া থেকে রেল লাইন এবং টেলিভিশন সেন্টার ও শরীফপুর এলাকায় প্রবাসীরা বাড়ি ঘর করতে গেলে তাকে চাঁদা দিতে হয়। প্রতি ঘর প্রতি ১০ হাজার টাকা চাঁদা না দিলে সে তার বাহিনী পাঠিয়ে রাতে ভাংচুর করত। কোরবানীর সময় এখলাসপুর বাজারে জেলার বৃহত্তর গরুর হাট বসে। এ বাজারে কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, রংপুর, রাজশাহী থেকে গরু বেপারীরা গরু নিয়ে আসলে এ নুর হোসেন বাদলের নেতৃত্বে গরু প্রতি ৫০০/১০০০ টাকা হারে চাঁদা আদায় করে দেলোয়ার বাহিনী। আবার যারা গরু কিনে নেয় পথিমধ্যে তাদের থেকে ও চাঁদা আদায় করে দেলোয়ারের নিকট জমা দেয়। এ ২০ বছর বয়সে সে কোন মামলার আসামী হয়নি। তবে ২০১৯ সালে তিন বার ডিবি পুলিশ তাকে মাদকসহ গ্রেফতার করলেও দলীয় নেতাদের সুপারিশে সে ছাড়া পায়। এরপর থেকে সে মাদক ব্যবসা ও চাঁদা বাজীতে আরো বেপরোয়া হয়ে যায়। তার নেতৃত্বেই বেগমগঞ্জের একলাশপুরে গৃহবধুকে নির্যাতন করে বিবস্ত্র ছবি তুলে ভাইরাল করা হয়েছিল। ঐ ছবিতে তাকে বারবার দেখা গেছে। এ নারী নির্যাতন ও পর্ণগ্রাফী নিয়ন্ত্রন মামলায় সে ১নং আসামী। র‌্যাব তাকে ঢাকায় কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করে সোমবার রাতে বেগমগঞ্জ থানায় সোপার্দ করেছে। বর্তমানে সে এ দুই মামলায় ৩ দিন করে ৬ দিনের রিমান্ডের পর ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।

আবদুর রহিম (২০) : মামলার এজাহারে মো: রহিম লিখলেও তার নাম আবদুর রহিম। তার বয়সও ২০ বছর। সে দেলোয়ারের নেতৃত্বে বাদলের প্রধান সহযোগী ও দুর্ধর্ষ ক্যাডার। তার পিতা শেখ আহমদ ওরপে দুলাল এলাকায় চা পোষা নিরীহ প্রকৃতির হলেও ছেলে রহিম ভয়ংকর সন্ত্রাসী। সে অবৈধ অস্ত্র দিয়ে প্রতিদিন ১টি গুলি ও ১টি ককটেল না ফোটালে তার হাত ফিসফিস করে বলে এলাকায় খ্যাতি রয়েছে। পিতামাতা ছোটবেলা থেকে অনেক চেষ্টা করেও তাকে লেখাপড়া করাতে পারেনি। সে দেলোয়ারের হাতে পড়ে কিশোর গ্যাং এ যোগ দিয়ে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি ও ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। এ বয়সে ৪/৫টা ইয়াবা না খেলে তার ঘুম হয় না। সে তার অনুগত ৫/৬জন ক্যাডার নিয়ে সারা রাত রাস্তায় চলাফেরা করে। গভীর রাতে চলাচলকারী সিএনজি, অটোটেম্পু থামিয়ে যাত্রী ও চালকদের সর্বস্ব কেড়ে নেয়া তার পেশা। সারা রাত যা আয় রোজগার করত ভোরে দেলোয়ারের হাতে তুলে দিতে হতো। তার পিতার আহাজারি দেলোয়ার তার ছেলের জীবন ধ্বংস করেছে। রহিমের বিরুদ্ধে কোন মামলা নেই।

সাজু (২২) : পূর্ব এখলাসপুর নোয়াব আলী বেপারী বাড়ির লোকমান মিয়ার ছেলে সাজু (২১) সম্ভ্রান্ত ধার্মিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করার পর থেকে লোকমান মিয়ার বড় আশা ছিল ছেলেকে বড় করে মানুষের মত মানুষ করবে। কিন্তু সে লেখাপড়া না করে বখাটে হয়ে যায়। বিগত ইউপি নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগ প্রার্থী আলমগীর কবির আলোর নৌকা মার্কার পক্ষে কাজ করতে গিয়ে দেলোয়ারের ক্যাডার গ্রপে নাম লিখায়। তারপর থেকে আর বাবা মার নিয়ন্ত্রণে ফিরে আসেনি। লোকমানের দু:খ তার ছেলে সাজু তার কথা না শোনে দেলোয়ারের কমান্ডে চলে আকাম কুকাম করে। এলাকাবাসী আড়ালে আবডালে জানায়, এ সাজু করে না এমন কোন কর্ম নেই। ইয়াবা ব্যবসা, ভাড়াটিয়া ক্যাডার হিসেবে মানুষের সম্পত্তি দখল করা, চাঁদাবাজি করা, গ্রাম্য শালিসে গিয়ে গন্ডগোল করা, সড়কে গাড়ি আটক করে টাকা আদায় করে, স্কুল কলেজে ছাত্রীদের যাওয়ার পথে ইভটিজিং করা এবং কক্সবাজার থেকে অস্ত্র ও ইয়াবা আমদানি করা সবই করে। সে ২/৩ বার ডিবি পুলিশের হাতে আটক হলেও দলীয় নেতারা তাকে ছাড়িয়ে আনেন। তবে তার বিরুদ্ধে সুধারামে থানায় রয়েছে ২টি মাদক মামলা। সে মামলায় সে জামিনে রয়েছে।

রহমত উল্যা (৩০) : মধ্যম এখলাসপুরের মৃত আবদুল করিমের ছেলে রহমত উল্যা। এক সময় দিনমজুর ছিল। ইউপি নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী আলমগীর কবির আলোর এর পক্ষে কাজ করে ভোট কেন্দ্র দখল করতে গিয়ে সখ্যতা হয় দেলোয়ারের সাথে। তারপর থেকে দিনমজুরের কাজ ছেড়ে মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। তরুন কিশোর গ্যাং এর সদস্যরা যখন কোথাও ভাড়ায় খাটতে যায়। সে তাদের মুরুব্বি হিসেবে সেখানে হাজির থাকে। আর ক্যাডাররা কাজ করে কোন ঝামেলায় পড়লে তাদেরকে উদ্ধার করা তার কাজ। বিভিন্ন স্থানে মাদক বিক্রির টাকা আদায় করে এ রহমত উল্যা। সে নিজেকে জেলা শ্রমিক লীগের নেতা হিসেবে পরিচয় দেয়। এ রহমত উল্যাও দুবার ডিবির হাতে মাদকসহ আটক হওয়ার পরও দলীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে সে ছাড়া পায়।

নুর হোসেন (৩০) : এক সময় ছোটখাট ব্যবসা করলেও দেলোয়ার দলে ভিড়ার পর গত তিন বছর পর থেকে মাদক ও অস্ত্র ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। ক্যাডার বাহিনী কোন অঞ্চলে ভাড়া খাটতে গেলে সে ৪/৫জন সিনিয়র ক্যাডার নিয়ে সিএনজি যোগে তাদের উদ্ধারকারী দল হিসেবে অপেক্ষা করে। এলাকায় আওয়ামী যুবলীগ নেতা হিসেবে পরিচয় দেয়। এলাকার জায়গা জমিন ক্রয় বিক্রি করতে হলে যে কেহ তাকে চাঁদা না দিয়ে করতে পারে না। কেহ জমিন ক্রয় বিক্রি করলে তার মাধ্যমে ৩ থেকে ৫% টাকা চাঁদা না দিলে সে জমিনের দখলে যেতে পারে না। ২০১৯ এ সেপ্টেম্বর গাবুয়ায় আমেরিকান প্রবাসীর বাড়িতে তার নেতৃত্বে হামলা চালিয়ে ২ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করে। বেগমগঞ্জ থানায় চাঁদা মামলা দিতে গেলে পুলিশের আদেশে মামলা থেকে তার নাম বাদ দিতে হয়েছে বাদীকে। এ রাসেল দেলোয়ার বাহিনীর অস্ত্র আনা নেয়ার কাজ করে। তার বিরুদ্ধেও থানায় কোন মামলা করতে সাহস পায়নি কেহ।

মানিক (২১) : মানিক (২১) দেলোয়ার এর কিশোর গ্যাং মামা বাহিনীর সদস্য। লেখাপড়া না করে পরিবারের অবাধ্য এ সন্তান দেলোয়ার বাহিনীতে জড়িয়ে পড়ে, মাদক সেবন, মাদক ব্যবসায়ই তার পেশা ও নেশা। এ মাদক সেবন করে সে কয়েকবার তার বাবা মাকে মারধর করে আহত করেছে। এলাকায় শ্রতি আছে মানিক অস্ত্র নিয়ে দু’হাতে গুলি ছুড়তে পারে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তার পিতা তাকে ফাঁসিতে ঝুলানোর জন্য আহবান করেন এবং কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, এ ছেলেকে সরকার ফাঁসি দিলে সে তার লাশ গ্রহণ করবে না। এ মানিকের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ও পর্নোগ্রাফি আইনের সন্দিগ্ধ আসামী ছাড়া কোন মামলা নেই। এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করলেও কেহ তার বিরুদ্ধে মামলা করতে বা মুখ খুলতে সাহস পায়নি।

আবুল কালাম (২৩) : দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী দেলোয়ারের প্রধান সেনাপতি আবুল কালাম। জয়কৃষ্ণপুর খাল পাড়ের জুলফিকার আলী বাবুলের ছেলে। বাবুলও ছিল এলাকার গরু ও ছাগল চোর। তার বখাটে ছেলে আবুল কালাম ওরপে কালা দেলোয়ারের প্রধান সহকারী। দেলোয়ারের অস্ত্র পরিস্কার করা, জুতা মুচে দেয়া, মাদক তৈরি করে খাওয়ানো, দেলোয়ারকে চাহিদামত এলাকার কেহ চাঁদা না দিলে তাদের উপর হামলা করে চাঁদা আদায় করা এবং অস্ত্র ভাড়া নিয়ে সময় মত অস্ত্র ফেরত না দিলে বা টাকা দিতে দেরি করলে তাদের ধরে এনে শাস্তি দিয়ে টাকা আদায় করা ছিল এ আবুল কালাম কালার কাজ। এর বাহিরেও দলীয় অনেক নেতাদের চাহিদা মোতাবেক বিদেশী মদ ও নারী সরবরাহ করত বলেও শাসক দলের একটি অংশ এলাকায় প্রচার করছে। তার বিরুদ্ধে বর্তমানে ৩টি মামলা ছাড়া থানায় কোন মামলা হয়নি। তবে বেগমগঞ্জ পুলিশ ২বার ও ডিবি পুলিশ ৩ বার মাদক সহ আটক করলেও টাকা পয়সা দিয়ে ও দলীয় প্রভাব খাটিয়ে ছাড়া পেয়ে যায় এ আবুল কালাম কালা। এলাকাবাসীর তথ্য মতে দেলোয়ারের অস্ত্র ভান্ডার রক্ষণাবেক্ষন করেন এ আবুল কালাম।

 

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *