জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনা
৩৮দিন
:
০৮ঘণ্টা
:
০২মিনিট
:
৩৬সেকেন্ড
জ্ঞান-তাপস বাতিওয়ালা প্রধান শিক্ষক মোশারফ হোসেন কে বিনম্র শ্রদ্ধা -

জ্ঞান-তাপস বাতিওয়ালা প্রধান শিক্ষক মোশারফ হোসেন কে বিনম্র শ্রদ্ধা

1 min read
113 Views

আবু নাসের টিপু, দৈনিক নোয়াখালী সময় ডট কম: ২০১৪ সালের এ দিনটিতে ছিলাম জাপানের জগৎখ্যাত পলিসি স্কুল গ্রিফস-এ অধ্যয়ণরত। কোনো এক প্রেজেন্টেশনের প্রস্তুতি গ্রহণকালে জানলাম আমাদের প্রিয় ও শ্রদ্ধেয় মোশাররফ স্যার আর নেই! চলে গেছেন জীবনের অনিবার্য গন্তব্যে। শত-সহস্র মনের আকাশে আলো জ্বালানো, পথ দেখানো আমাদের বাতিঘরের আলো নিভে গেছে। টোকিওর আকাশজুড়ে ঘুরছিলো একদল বোহেমিয়ান মেঘ। ক্ষণিক পর নামলো বৃষ্টির ধারা। মনে হচ্ছিল দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা মোশাররফ স্যারকে হারিয়ে ছাত্রদের রাশি রাশি কষ্ট ঝরছে আকাশ থেকে। আজ ফিরে এসেছে সে দিনটি। ৩ আগস্ট। স্যারের প্রয়াণ দিবস। অসংখ্য স্মৃতি নোঙর করছে মনের ঘাটে। সেদিনের কথা স্পষ্ট মনে পড়ে; প্রেজেন্টেশনের শুরুতে সদ্য প্রয়াত শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা জানালাম। সকালে পাওয়া তাঁর মৃত্যু সংবাদের সাথে যুক্ত করেছিলাম একখানা ছবি। কীভাবে একজন শিক্ষক বদলে দিলেন একটি জনপদের চালচিত্র, গড়ে দিলেন সমাজ-মানস। কীভাবে পরিচর্যা করতেন ছাত্রছাত্রীদের। বাধা আর অচলায়তনের খানাখন্দ পেরিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থেকে শতফুল ফোটানো এক নিবেদিতপ্রাণ সৃজক তিনি। কথা শেষ হতে না হতে পৃথিবীর নানান দেশের সরকারি কর্মকর্তাগণ বিনম্র শ্রদ্ধায় দাঁড়িয়ে গেলেন। টোকিও’র গ্রিফস এর শ্রেণিকক্ষে মাথা নীচু করে সবাই সম্মান সম্মান জানাল শহীদ আমান উল্যাহ উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মোশাররফ হোসেন স্যারকে। যাদের কেউই চিনেন না, জানেন না এমনকি অনেকে কোনোদিন বাংলাদেশেও আসেননি। অথচ সুদূর আফ্রিকা থেকে মধ্য এশিয়া হয়ে মঙ্গোলিয়া; এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকার কত দেশের অফিসাররা মাথা নুয়ে শ্রদ্ধা জানালেন একজন শিক্ষককে, আমাদের হেড স্যারকে! সেদিন তিনি হয়ে উঠেছিলেন উপস্থিত সবার প্রিয় শিক্ষকের প্রতীক। জাপানিজ কোর্স শিক্ষক যোগ করলেন, “পৃথিবীর যে প্রান্তেই শিক্ষাদান করুন একজন শিক্ষক হচ্ছেন আলোর মশাল, তিনি সার্বজনীন। একজন শিক্ষক বিদায় নেন না, হারিয়ে যান না। তাঁরা আশপাশেই থাকেন, থাকেন সংকটে-সম্ভাবনায়। ছাত্র যখন সমস্যায় পড়বে, মনে মনে তার কাছে পরামর্শ চাইবে। দেখবে, তিনি তোমাকে পথ দেখাচ্ছেন। যিনি সারাদিন স্কুলের কার্যক্রম শেষ করে খাটুনি শেষে ধুলোমাখা কাঁচা সড়ক পেরিয়ে, কখনো তপ্ত অপরাহ্নে কিংবা বর্ষায় কাদাপানি মাড়িয়ে কিংবা কুয়াশার বাধা পেরিয়ে পাঁয়ে হেঁটে ছুটতেন শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি। বিদ্যুৎহীন রাতের আঁধারে নিত্যসঙ্গী পাঁচ ব্যাটারির লাইট। আলোর ফেরিওয়ালা একজন! ছড়াতেন শিক্ষার আলো। সে আলো, সে পদধুলি যেখানটায় পড়েছে সেখানটাই আলোকিত হয়েছে। মানুষ গড়ার ক্লান্তিহীন এক বিরল কারিগর ছিলেন তিনি। আজ তাঁকে হারানোর দিন। খুব মনে পড়ছে স্যারকে। আসলেই একজন শিক্ষকের মৃত্যু নেই। এক প্রদীপ থেকে হাজার প্রদীপে আলো জ্বালান একজন আদর্শ শিক্ষক। আর এভাবেই একজন শিক্ষক বেঁচে থাকেন উত্তর-প্রজন্মে, আসন করে নেন হাজারো ছাত্রছাত্রীর হৃদয়মাঝে। ওপারে ভাল থাকুন স্যার। মহান স্রষ্টার নিকট আপনার জন্য বেহেস্তের প্রশংসিত স্থানে আসন প্রার্থনা করছি।

 

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *